❇️ নারীর স্বভাবের ১০ টি নিষিদ্ধ সত্য, যা শেখানো হয়নি
মহিলা মনোবিজ্ঞান
সত্য কখনো মিষ্টি হয় না। সত্য সবসময় একটু কর্কশ লাগে। আর যখন প্রশ্ন ওঠে নারী স্বভাবের তখন এই কর্কশতা আরো গভীর হয়ে যায়। ফ্রেডরিক নিচ বলেছিলেন মহিলাদের বিষয়ে সবকিছুই একটি ধাঁধা এবং মহিলাদের সবকিছুরই একটাই সমাধান আছে। এটিকে বলা হয় প্রেগনেন্সি। কিন্তু আসলে তার কথার নিচে লুকানো ছিল একটি গভীর সতর্কবাণী। একটি সতর্কবাণী যা আজও ঠিক ততটাই সত্য। আজ আমি তোমাকে বলব
নারী স্বভাবের 10টি কালো সত্য।
এমন সত্য যা তুমি বইয়ে কখনো পড়নি। এমন সত্য যা সমাজ কখনো মেনে নেবে না। কিন্তু যদি তুমি এগুলো জানো তাহলে তোমার চোখ থেকে সেই পর্দা ছুটে যাবে যা অধিকাংশ পুরুষকে অন্ধ করে রাখে। চলো তাহলে শুরু করি।
প্রথম সত্য।
নারীর প্রথম অস্ত্র আকর্ষণ। নারীর কাছে অস্ত্র থাকে না। তার কাছে শক্তি নেই। কিন্তু তার আছে সবচেয়ে বিষাক্ত শক্তি তার আকর্ষণ। ফ্রিডেরিক নিট সে বলেছেন, নারীর শক্তি লুকিয়ে থাকে তার আকর্ষণ ও সূক্ষ আচরণের মধ্যে। একজন নারীর হাসি, চোখের নরম দৃষ্টি বা তার কোমল স্পর্শ এই ছোট ছোট ইঙ্গিতি মুহূর্তে একজন পুরুষের কঠোর মানসিকতা নরম করে দিতে পারে। তুমি যতই ভাবো তুমি যুক্তিবাদী, স্থির এবং বুদ্ধিমান। নারীর আকর্ষণ সবসময় সেই যুক্তি ও লজিকের উপর নিঃশব্দে জয় পায়। কারণ এটাই তার প্রথম প্রাকৃতিক
এবং সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র তার মোহ।
দ্বিতীয় সত্য।
নারী নিরাপত্তা চায় ভালোবাসা নয়। বেশিরভাগ পুরুষ মনে করেন নারীরা ভালোবাসা চায় কিন্তু বাস্তবতা
হচ্ছে নারীরা নিরাপত্তা চায়। ফ্রেডেরিক নিচ লিখেছিলেন মানুষ যুদ্ধের জন্য তৈরি। নারী পুনর্নির্মাণের জন্য। এখানে নিজেকে নিরাপদ রাখাই নারীর প্রকৃত স্বভাব। সে দেখে কে তাকে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং শক্তি দিতে পারে। ভালোবাসা তার কাছে কেবল একটি পথ। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপত্তা।
এইজন্য নারী প্রায়শই সেই পুরুষটিকেই বেছে নেয় যিনি সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তিশালী মনে হয়। তাকে না যে পুরুষ তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।
তৃতীয় সত্য।
নারীর জন্য পুরুষ একটি মাধ্যম। এই কথা শুনে তোমাকে কষ্ট লাগতে পারে। কিন্তু এটি করা বাস্তবতা। একজন নারীর কাছে পুরুষ কখনোই উদ্দেশ্য হয় না। সে পুরুষকে প্রায়ই একটি মাধ্যম হিসেবে দেখে। কখনো নিরাপত্তার জন্য, কখনো সামাজিক মর্যাদার জন্য, কখনো নিজের ইচ্ছা পূরণের জন্য। ফ্রেডরিক নিচে বলেছেন, নারীর সবকিছুই একটি ধাঁধা এবং নারীর সবকিছুরই এক সমাধান আছে। তা হলো পুরুষ। অর্থাৎ নারীর খেলা পুরুষকে ঘিরেই ঘরে। কিন্তু এখানে কৌশল হলো পুরুষ ভেবে বসে যে সে কেন্দ্র। বাস্তবে সে শুধু একটি মাধ্যম। ভাবো অনেক নারী এমন পুরুষের সঙ্গে বিয়ে
করে যাকে তারা সত্যি ভালোবাসে না, কেন করে। কারণ সেই পুরুষের থেকে তাদের কিছু পাওয়ার কারণ থাকে। কখনো সামাজিক সম্মান, কখনো আর্থিক নিরাপত্তা, কখনো পরিবার গঠনের সুযোগ, আর যখন সেটা পূরণ হয়। প্রায়শই নারীর প্রবণতা বদলে যায়। তখন পুরুষ হতবাগ হয়ে যায়। আমি সব করেছি তারপরও সে সুখী নয়। কেন আসলে সে কখনোই তোমাকে উদ্দেশ্য ধরে চলেনি। সে তোমাকে শুধু একটি মাধ্যম ধরেই চলেছে। এই কারণে পুরুষ বারবার হৃদয় ভাঙ্গার অভিযোগ করে। কারণ তারা নারীকে উদ্দেশ্য ধরে নিয়েছিল। অথচ নারী তাকে কেবল মাধ্যম মনে করেছে।
যদি তুমি এটা বুঝে যাও কখনো ভুল প্রত্যাশা করবে না।
চতুর্থ সত্য
নারীর নিষ্ঠা সবসময় শর্ত সাপেক্ষ। পুরুষরা প্রায়ই মনে করে যদি তারা কোন নারীর প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা দেখায়। তাহলে সেই নারী সারাজীবন তাদের পাশে থাকবে। কিন্তু এটাই সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা। কারণ নারীর নিষ্ঠা কখনোই একতরফা বা নিঃশর্ত নয়। তা নির্ভর করে মূল্যবোধ, নিরাপত্তা, সম্মান, আবেগীয় সংযোগ এবং ভবিষ্যতের স্থিতির উপর। সে ততক্ষণ বিশ্বস্ত থাকে। যতক্ষণ
সে তোমার থেকে কিছু পাচ্ছে। সেটা হতে পারে টাকা, সেটা হতে পারে নিরাপত্তা বা সামাজিক সম্মান এবং মর্যাদা। ঠিক যেই মুহূর্তে তার মনে হয় যে এসব এখন তার থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তখন তার বিশ্বস্ততাও হালকা হতে থাকে।
তুমি দেখেছো কতজন নারী সম্পর্কের ভিতরে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত। যতক্ষণ পুরুষ শক্তিশালী উপার্জনশীল, এবং তাদের সহায়তা করে, কিন্তু যখনই পুরুষ পড়ে যায় প্রায়শই সেই নারীরা প্রথমেই চলে যায় এটা তিক্ত সত্য। নারীর বিশ্বস্ততা স্থায়ী নয়, বরং শর্ত সাপেক্ষ। এবং এই শর্তগুলোর নাম ফায়দা নিরাপত্তা এবং স্থিরতা। তাই যদি তুমি মনে করো যে নারী কেবল তোমার ভালোবাসার জন্য চিরকাল থাকবে। তাহলে সেটা একটা বিপদজনক ভুল। নারী বিশ্বস্ত কিন্তু শুধুমাত্র যতক্ষণ তার চাহিদাগুলো পূরণ হচ্ছে।
সত্য পাঁচ
নারী শক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। নারী নিজে থেকে শক্তি হতে পারে না। সে যুদ্ধ লড়তে পারে না। সাম্রাজ্য গড়তে পারে না। কিন্তু তার সবচেয়ে গভীর প্রবণতা হলো শক্তির
সঙ্গে জুড়ে যাওয়া। ইতিহাসে প্রতিটি রাজপ্রাসাদে রানী এবং স্ত্রীরা সেই রাজা, বা শাসকের চারপাশেই ছিল। যার হাতে তরবারি ও মুকুট ছিল। সাধারণ বা দুর্বল পুরুষ তাদের জন্য অদৃশ্য হয়ে যেত। এটা শুধু ইতিহাস নয় আজও সত্য। আধুনিক জগতে
শক্তি মানে টাকা, প্রভাব, এবং আত্মবিশ্বাস। নারী তার দিকে আকৃষ্ট হয় যার কর্তৃত্ব আছে। যার কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে। দুর্বল পুরুষ নারীর চোখে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। সে বলবে যে তাকে ভালো হৃদয় ও ভালোবাসা দরকার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার মন সেই পুরুষের প্রতি টিকে থাকে যে বিশ্বে নিজের আধিপত্য গড়ে তুলতে পারে। তাই মনে রেখো যদি তুমি জীবনে শক্তিশালী না হও। যদি তোমার কাছে নিয়ন্ত্রণ না থাকে। তাহলে নারী তোমাকে কখনোই সত্যিকারের অর্থে ভালোবাসবে না। সে কেবল শক্তির পাশে দাঁড়ায় এটাই তার স্বভাব।
সত্য ছয়
নারী নির্দোষতার মুখোষ পরিধান করে নারী কখনোই সরাসরি তার আসল উদ্দেশ্য বলে না। সে সবসময় নির্দোষতার একটি মুখোষ পড়ে। যাতে পুরুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। নিট বলেছেন নারী
শেখে ভালোবাসার ভেতরেই বিদ্বেষ করতে। ধীরে ধীরে সে ভুলতে থাকে কিভাবে নিখাতভাবে ভালোবাসতে হয়। অর্থাৎ যতক্ষণ নারী নির্দোষতা ও আকর্ষণের মুখোষ ধরে রাখে সে সহজে পুরুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এবং যখন সেই মুখোষ পড়ে যায়। তখন তার আসল চেহারা প্রকাশ পায়।
সত্য সাত।
নারী কখনো তৃপ্ত হয় না। এটা সম্ভবত সবচেয়ে করা কথা। নারী পুরোপুরি কখনোই সন্তুষ্ট হয় না। সে সবসময় চায় বেশি আরো চায়। নিট সে বলেছিলেন, প্রেম ও প্রতিশোধে নারী পুরুষের তুলনায় বেশি পরাক্রমশালী। অর্থাৎ নারীর স্বভাব সবসময় বিক্ষিপ্ত।
সবসময় লালায়িত এবং সবসময় অতিরিক্ত। সে কখনোই থামে না। না সম্পর্কে, না ইচ্ছায়, না প্রত্যাশায়।
সত্য আট।
নারীরা আবেগ নিয়ে খেলায় নিপুণ। পুরুষ প্রায়শই যুক্তি নিয়ে কাজ করে। কিন্তু নারী সবসময় আবেগের খেলা খেলতে জানে। সে জানে সরাসরি যুক্তি দিয়ে পুরুষকে পরাজিত করা যায় না। তাই সে আবেগকে অস্ত্র বানায়। অপরাধবোধ, কাঁদা, নীরবতা, অভিযোগ এসব তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। নিট সে বলেছিলেন, যখন একজন নারীর
মনোবৃত্তি বিশ্লেষণ হয়, প্রায়শই তার আবেগে কিছু ত্রুতি ধরা পড়ে। অর্থাৎ তার আসল শক্তি আবেগকে মোড়ানোর ক্ষমতাতেই লুকিয়ে আছে। এবং এই কারণেই পুরুষ প্রায়ই জালে পড়ে যায়।
ট্রুথ নাইন।
নারী প্রতিযোগিতায় নির্মম। তুমি ভাবো নারী দয়ালু। কিন্তু সত্য হলো একজন নারী অন্য নারীদের সঙ্গেই সবচেয়ে কঠোর হয়। তার কাছে প্রেমের চেয়ে বড় যুদ্ধ হলো অন্য নারীদের পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া।
এজন্যই সে সুন্দর দেখাতে, নজর কাটতে, প্রতিযোগিতায় জিততে সকল সম্ভব কৌশল ব্যবহার করে। সে কখনো প্রকাশ্যে লড়াই করবে না। বরং আড়াল থেকে আঘাত করবে। এটাই তার কৌশল। আর এটাই তার প্রকৃত খেলা। সত্যের শীর্ষে দাঁড়ানো এই বাস্তবতা হলো নারী কখনো তোমাকে পুরোপুরি নিজের করে নিতে দেবে না। নিট সে বলেছিলেন, তুমি কি কোন নারীর কাছে যাচ্ছ? তোমার সঙ্গে চাবুক নিতে ভুলে যেও না। কথাটি শুনতে কঠোর লাগলেও এর অর্থ নারীকে অত্যাচার করা নয়। এর আসল সতর্ক বার্তা হলো যদি তুমি তাকে সম্পূর্ণ
নিয়ন্ত্রণ করতে দাও। সে একসময় তোমাকে নিজের দাসে পরিণত করবে। নারী সবসময় চাইবে
পুরুষ তার চারপাশে ঘুরে বেড়াক। কিন্তু যদি পুরুষ নিজেকে তার কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে ফেলে তবে সে তাকে কখনোই সম্পূর্ণভাবে নিজের করে নেবে না।
এটাই শেষ সত্য।
নারী তোমাকে সবসময় কিছুটা অসম্পূর্ণ অবস্থায় চাইবে। যাতে তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে
পারে। এখন তুমি ভাবছো তাহলে কি নারীরা খারাপ? না। এটি তাদের স্বভাবের সত্য। সমস্যা হলো পুরুষ এই সত্যগুলো দেখতে চায় না। সে মিষ্টি মিথ্যার ভেতরেই বাঁচতে চায়। কিন্তু যদি তুমি সত্যকে দেখতে পারো তুমি মুক্ত হয়ে যাবে।
কারণ শক্তি শুরু হয় সেই স্থান থেকে। যেখানে ভ্রম ভেঙে যায়। আর আজ তোমার সেই ভ্রম ভেঙে গেছে। মনে রেখো নারীকে বোঝা তোমার উদ্দেশ্য নয়। তোমার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নিজেকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলা যেন কোন খেলা, কোন প্রতারণা, কোন বিভ্রম তোমাকে নিচে নামাতে না পারে। নিট সে বলেছিলেন, বিকাম হু ইউ আর। আর এটাই তোমার সবচেয়ে বড় কাজ। নিজেকে চিনো, নিজেকে শক্ত করো এবং নিজেকে এত উঁচুতে তুলো যে কেউ তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। জীবন সম্পর্কে এইরকম শক্তিশালী